প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Dec 23, 2025
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: হামিদুর রহমান আযাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রে পরিণত করাই জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘স্টার নির্বাচনী সংলাপ: আপনার দল, ভোটারের প্রশ্ন’ শীর্ষক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমাদের ভিশন ও মিশন সামনে রেখে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেখানে দুর্নীতি চিরবিদায় নেবে, সন্ত্রাস বিদায় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”
নাগরিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মায়ের কোলে যেমন শিশু নিরাপদ থাকে, তেমনি বাংলাদেশের নাগরিকরাও যেন আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষাকে কার্যকর করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার মান উন্নয়ন জরুরি।
বর্তমানে শিক্ষায় জিডিপির ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তা পর্যায়ক্রমে ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ও ইংরেজি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করা হবে।
মেধা পাচার রোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণার সুযোগ না বাড়ালে দেশের মেধাবীরা বিদেশমুখী হতে বাধ্য হবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শিক্ষার দুরবস্থা ও অর্থনীতির পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন অপরিহার্য।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সম্পদ ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এজন্য প্রান্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা, ট্যাক্স নীতির সংস্কার এবং বৈচিত্র্যময় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রতি তিন বছর অন্তর করদাতাদের জন্য ইনসেন্টিভ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এছাড়া নারী শিক্ষা, নারী অধিকার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য নতুন কার্ডভিত্তিক রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের বেকার না রেখে দেশের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।